দুই দলের সবশেষ দিবারাত্রির টেস্টের প্রথম বলেই উইকেট নিয়ে বেঁধে দিয়েছিলেন ম্যাচের সুর। ভারতের বিপক্ষে আরেকটি দিবারাত্রির টেস্টের প্রথম বলেই আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান ইয়াশাশভি জয়সওয়ালকে ফিরিয়ে দিলেন মিচেল স্টার্ক। অভিজ্ঞ এই পেসারের ফাইফারে ঘুরে দাঁড়াতেই পারল না ভারতের ইনিংস। সম্ভব হলো না দুইশ ছোঁয়াও। শুরুতেই উইকেট হারালেও অস্ট্রেলিয়ার দিনটা শেষ করল সুবিধাজনক অবস্থায় থেকেই।
অ্যাডিলেড ওভালে বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফ্রির দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনে ভারত গুটিয়ে গেছে মাত্র ১৮০ রানেই। অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ১ উইকেটে ৮৬ রান, পিছিয়ে আছে ৯৪ রানে।
আরও পড়ুন
অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ফেলে আইপিএলের নিলামে যাচ্ছেন স্পিন কোচ ভেট্টোরি |
প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার বোলিং লাইনআপের ওপর দাপট দেখিয়ে শতক হাঁকান জয়সওয়াল। ওই ইনিংসে স্টার্ককে বেধড়ক পিটুনিই দিয়েছিলেন ভারত ওপেনার। ফলে এই দুজনের লড়াইয়ের আশায় ছিলেন সবাই। তবে এবার শতভাগ সফল নন অজি তারকা পেসার। সুইং করা ডেলিভারিটি আঘাত হানে জয়সওয়ালের প্যাডে। গোল্ডেন ডাকের তেতো অভিজ্ঞতা হয় তরুণ এই ব্যাটারের।
এই ম্যাচ দিয়ে একাদশ ফেরা অধিনায়ক রোহিত শর্মা ওপেনিং ছেড়ে নেমে যান ছয় নম্বরে। প্রথম টেস্টে মেকশিফট ওপেনার হিসেবে খেলা লোকেশ রাহুল প্রথম ঘণ্টায় অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের সামাল দেন সলিড ডিফেন্সে। এই টেস্ট দিয়ে একাদশে ফেরা তিনে নামা শুবমান গিল প্রথম ওভারে ক্রিজেই গিয়েই মারেন তানা দুই বাউন্ডারি।
এরপর রয়েসয়ে খেলে রাহুলকে দেন যোগ্য সঙ্গ। জমে যাওয়া এই জুটিতে যোগ হয় ৬৯ রান। দুজনই যখন পুরোপুরি সেট, তখন ফের আঘাত হানেন সেই স্টার্কই। ৬ চারে ৩৭ রানে শেষ হয় রাহুলের প্রতিরোধ। ভারতকে আরও চাপে ফেলে আগের ম্যাচের আরেক সেঞ্চুরিয়ান বিরাট কোহলিকেও ফিরিয়ে দেন বাঁহাতি এই পেসার। অফস্ট্যাম্পের বাইরের বল তাড়া করে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আউট হন এই তারকা ব্যাটার।
জশ হ্যাজলউডের চোটে এই ম্যাচে সুযোগ পাওয়া স্কট বোল্যান্ড দিবারাত্রির টেস্টে বরাবরই দারুণ এক বোলার। সেই খ্যাতি ধরে রেখে জোড়া ধাক্কায় ভারতের চাপ আরও বাড়িয়ে দেন তিনি। ৩১ রান করা গিলের পর শিকার বানান ২৩ বলে ৩ করা রোহিতকেও। ১৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ভারত চলে যায় ব্যাকফুটে।
আরও পড়ুন
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে গিলকে ‘পাচ্ছে না’ ভারত |
স্বভাবসুলত আগ্রাসী ব্যাটিং না করে কিছুটা ধরে খেলার দিকেই মনোযোগী ছিলেন রিশাভ পান্ত। তবে পারেননি বড় স্কোর গড়তে। ২ বাউন্ডারিতে করতে পারেন ২১ রান। তবে আগ্রাসী ব্যাটিংটা করেন এই ম্যাচ দিয়েই একাদশে আসা অভিজ্ঞ স্পিনার রবিচন্দন অশ্বিন। খেলেন ২২ বলে ২২ রানের ক্যামিও।
তবে ভারতের দেড়শ পার করে দুইশ রানের কাছাকাছি যাওয়ার একমাত্র কৃতিত্ব পেস বোলিং অলরাউন্ডার নিতিশ রেড্ডির। প্রথম টেস্টেও জানান দিয়েছিলেন ব্যাট হাতে নিজের সামর্থ্যের। এবার দলের বিপদে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে পরীক্ষাই নেন অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের। সমান তিনটি করে চার ও ছক্কায় তার ব্যাট থেকে আসে মূল্যবান ৪২ রান।
৪৮ রানে ৬ উইকেট নেন স্টার্ক। টেস্টে এই নিয়ে ১৫বার ইনিংসে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট পেলেন তিনি।
পার্থ টেস্টের প্রথম ইনিংসেও দুইশর কম করেও শেষ পর্যন্ত বড় জয় পেয়েছিল ভারত, যেখানে অবদান রাখেন দলটির পেসাররা। এবারও শুরু থেকেই অজি ওপেনারদের প্রতিটি রানের জন্য রীতিমত সংগ্রাম করিয়ে ছাড়েন জাসপ্রিত বুমরাহ ও মোহাম্মদ সিরাজ। বিশেষ করে বুমরাহকে ব্যাটাররা যেন একটু বেশিই সমীহ করে খেলছিলেন। সাথে হারশিত রানাও আঁটসাঁট বোলিং ধরে রাখেন চাপটা।
আরও পড়ুন
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে গিলকে ‘পাচ্ছে না’ ভারত |
ফলে রানের জন্য হাঁসফাঁস করতে থাকা দুই ওপেনার নাথান ম্যাকসুইনি ও উসমান খাজা কয়েকবার বেঁচে যান অল্পের জন্য। তাদের অতিরিক্ত ডিফেন্সিভ ব্যাটিং দেখে ধারাভাষ্যকার রবি শাস্ত্রি বলছিলেন, এই ধরণের ব্যাটিং ভারতকে ম্যাচে ফেরার বিশ্বাসটা বাড়িয়ে দিতে পারে। ১০ ওভারে রান আসে মাত্র ২৪।
শেষ পর্যন্ত ফর্মের তুঙ্গে থাকা বুমরাহ শেষ পর্যন্ত পান সাফল্যের দেখা। অফস্ট্যাম্পের বাইরের ডেলিভারিতে ব্যাটের কানায় লেগে প্রথম স্লিপে রোহিতের ক্যাচ শেষ হয় খাজার ১৩ রানের সংগ্রামী ইনিংস।
সেই সময়ে অস্ট্রেলিয়ার সামনে ছিল কঠিন চ্যালেঞ্জই। কারণ, টেস্ট ক্রিকেটে এখনও নতুন ম্যাকসুইনি প্রথম টেস্টে পারেননি নিজেকে মেলে ধরতে। আর মার্নাস লাবুশেন তো লম্বা সময় ধরেই নেই রানের মধ্যে। বেশ খানিকটা সময়েই তাই দুই ব্যাটারকে ভারতের পেসারদের সামনে দিতে হয় কঠিন পরীক্ষা।
বুমরাহর কয়েকটি ইনসুইঙ্গার দুই ব্যাটারকে পারেননি অল্পের জন্য আউট করতে। কয়েকটি দুর্দান্ত আউটসুইঙ্গার আবার পরাস্ত করে পুরোপুরিভাবে। তবে সেই সময়ে দাঁতে দাঁত চেপে ব্যাটিংয়ের সুফল ধীরে ধীরে পেতে শুরু করেন ম্যাকসুইনি ও লাবুশেন।
রানের চাকাও তাতে সচল হয় কিছুটা। দুজনই হাঁকান চমৎকার কিছু শটে বাউন্ডারি। রানের জন্য সংগ্রাম করতে থাকা লাবুশেন কিছু শটে মনে করান সেরা সময়ের কথা। আর তরুণ ম্যাকসুইনিও নির্বাচকদের আস্থার প্রতিদান দিয়ে ক্রমশ ব্যাটিংয়ে দেখান আত্মবিশ্বাসের ছাপ। দর্শকদের আনন্দে মাতিয়ে নিতিশকে মারেন টানা দুটি চার।
আরও পড়ুন
শাহিন-নাসিম-রউফ তোপে উড়ে গেল অস্ট্রেলিয়া, সিরিজ জয় পাকিস্তানের |
জমে ওঠা এই জুটি একবার রান-আউটে কাঁটা পড়ার খুব কাছাকাছি গিয়ে রক্ষা পায়। ফিরতি স্পেলে শেষ ঘণ্টায় নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেন্থে বোলিং করে আরও একবার ব্যাট-বলের লড়াই জমিয়ে তোলেন বুমরাহ। সেটা সামলে দিনটা শেষ পর্যন্ত পার করে দিতে সমর্থ হন ম্যাকসুইনি-লাবুশেন জুটি।
ম্যাকসুইনি অপরাজিত আছেন ৩৮ রানে, আর লাবুশেনের সংগ্রহ ২০ রান।
মেলবোর্ন টেস্টে ২১ বছর ২১৬ দিন বয়সে সেঞ্চুরি করলেন নিতিশ কুমার রেড্ডি। এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার যখন ব্যাট করতে নামেন ভারত তখন ১৯১ রানে ৬ উইকেট হারিয়েছে। অষ্টম উইকেটে ১২৭ রানের জুটি গড়েছেন ওয়াশিংটন সুন্দরের সাথে। দিনশেষে অস্ট্রেলিয়ার ৪৭৪ রানের জবাবে ভারত ৯ উইকেটে ৩৫৮, আর নিতিশ অপরাজিত ১০৫ রানে যা তাঁর প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি! সেই সেঞ্চুরি মাঠে বসে দেখেছেন তাঁর বাবাও। ফাস্ট ক্লাস ক্রিকেটে এর আগে তিনি একবারই কেবল তিন অংকের দেখা পেয়েছিলেন।
ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসে এটি সবচে কম বয়সে সেঞ্চুরি হাঁকানো ব্যাটসম্যানের তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে। ১৭৬ বলে ১০ চার ও এক ছক্কায় এই ইনিংস খেলেছেন নিতিশ। শেষ ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ সিরাজ ২ রানে অপরাজিত আছেন। তাকে নিয়ে এই ইনিংসটি কোথায় শেষ করবেন নিতিশ সেটাই এখন দেখার।
দেখার রয়েছে সবচে কম বয়সে সেঞ্চুরি করা আগের সেই পাঁচ ব্যাটসম্যান কারা?
মাধাভ আপ্তে: ১৯৫৩ সালে মাধাভ আপ্তে ২০ বছর ১৩৭ দিন বয়সে সেঞ্চুরি করেছিলেন। প্রতাপশালী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৬৩ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন আপ্তে। মূলত তাঁর এই ইনিংসে ভর করে ম্যাচ ড্র করেছিল ভারত।
আব্বাস আলী বেগ: ১৯৫৯ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২০ বছর ১২৬ দিন বয়সে সেঞ্চুরি করেছিলেন আব্বাস আলী বেগ। তিনি আছেন তালিকার চতুর্থ স্থানে। সফররত ভারতের বিপক্ষে টেস্টটি ইংল্যান্ড জিতেছিল ১৭১ রানে। এটাকে এখনও কোন ভারতীয় তরুণের অন্যতম সেরা ইনিংস ধরা হয় বিদেশের মাটিতে।
কপিল দেব: ১৯৭৯ সালে মাত্র ২০ বছর ১৮ দিন বয়সে প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছিলেন কপিল দেব। তাঁর অপরাজিত ১২৬ রানের ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫৬৬ রানের ইনিংস গড়েছিল ভারত। ১২৪ বলে এই ইনিংসটি খেলেছিলেন তরুণ কপিল। ম্যাচটি ড্র হয়েছিল।
পৃথিবী শ: ২০১৮ সালে পৃথিবী শ’ যখন তাঁর প্রথম সেঞ্চুরিটি পান তখন বয়স ছিল ১৮ বছর ৩২৯ দিন। রাজকোটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলেন ১৩৪ রানের ইনিংস। মাত্র ৯৯ বলে হাঁকান শতক। ভারত ম্যাচ জেতে ইনিংস ও ২৭২ রানে।
শচিন টেন্ডুলকার: শুধু ভারত নয় সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান তাঁর প্রথম সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন ১৭ বছর ১০৭ দিন বয়সে। ১৯৯০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১১৯ রানের অপরাজিত ইনিংসটি শচিন খেলেছিলেন ওল্ড ট্রাফোর্ডে। এই সেঞ্চুরি ভারতকে ম্যাচ বাঁচাতে সাহায্য করেছিল। শচীনের ৫১ টেস্ট সেঞ্চুরির প্রথমটি আজও কোন ভারতীয়র সবচে কম বয়সে পাওয়া প্রথম শতক। তাঁর অবসরের ১১ বছর পরও যা অমলিন।
তবে গ্রেটদের এই তালিকায় নিজের নাম উঠিয়ে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন নিতিশ কুমার রেড্ডি। দলের চতুর্থ পেসার হিসেবে প্রথম ইনিংসে ৭ ওভার বল করেও উইকেট পাননি তিনি, তবে ৮ নাম্বারে ব্যাট করতে নেমে সেঞ্চুরি করে ঠিকই ভারতকে রেখেছেন ম্যাচের লড়াইয়ে!
২৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৯:৫৩ এম
২৭ ডিসেম্বর, ব্রিটিশ কাউন্সিল এর এক্সাম সেন্টার গ্লোবালএডের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির সাথে মউ সাইনিং সেরেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল। অধ্যয়নরত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের খেলোয়াড়দের পাশাপাশি ঘরোয়া পর্যায়ের খেলোয়াড়দের (পুরুষ ও নারী) জন্য গ্লোবালএড ১০০% স্কলারশিপে স্পোকেন ইংলিশ কোর্সে অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদান করেছেন।উক্ত স্পোকেন ইংলিশ কোর্সের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের ইংরেজিতে যোগাযোগ দক্ষতা নিশ্চিত করবে গ্লোবালএড।
খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষভাবে কোর্স ডিজাইন, কোর্স কম্পলিশন সার্টিফিকেট, ন্যাশনাল ক্রিকেটারদের সাথে ক্লাস করার সুযোগ, আইএলটিএস সম্পন্ন করে বিদেশে উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন পুরণের নিশ্চয়তা নিয়েই কোর্সটির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যাতে খেলোয়াড়েরা খেলার পাশাপাশি ইংরেজিতে দক্ষ হয়ে গড়ে উঠে ও আন্তর্জাতিকভাবে মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে যথাযথভাবে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে।
অনুষ্ঠানে উদবোধনী বক্তব্য রাখেন ক্রিকেট এনালিস্ট ও আন্তর্জাতিক ধারাভাষ্যকার সৈয়দ আবিদ হোসাইন সামি। আরো উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় মো: আল আমিন হোসেন, রনি তালুকদার, মাহিদুল ইসলাম অংকন, আলিস আল ইসলাম, মারুফ মৃধা, মাহফুজুর রহমান রাব্বি, রবিউল হক সহ আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়দের পাশাপাশি ঘরোয়া পর্যায়ের অনেক খেলোয়াড়।
সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির পক্ষে সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন মাননীয় উপাচার্য প্রোফেসর শামীম আরা হাসান এবং গ্লোবালএডের পক্ষে স্বাক্ষর করেন পরিচালক লায়ন মীর আব্দুল আলীম। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মো: আবু হানিফ, মেহেরাব হোসেন জোসি, মাহমুদুল হাসান প্রধানসহ স্পোকেন ইংলিশ কোর্সের শিক্ষকগণ ও অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।
২৬ ডিসেম্বর ২০২৪, ৭:৫৫ পিএম
মাঠে ও মাঠের বাইরে তাঁকে নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনায় মুখর সবাই। জাতীয় দলে ফিরবেন কিনা, বিপিএলে খেলবেন কিনা এতসব প্রশ্নের ভিড়েই পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ড্রাফটে নাম লিখিয়েছেন বাংলাদেশি অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। পিএসএল তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে সাকিবের ড্রাফটে নাম তোলার খবর।
বুধবার(২৫ ডিসেম্বর) নিজেদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে পিএসএল বাঁহাতি এই অলরাউন্ডারের ভিডিও পোস্ট করে। “বাংলাদেশের তারকা অল-রাউন্ডার সাকিব আল হাসান পিএসএল ড্রাফটে নাম লিখিয়েছেন।”- এই ক্যাপশনে পোস্ট করে পিএসএল।
বেশ কয়েকবারই পিএসএলে অংশগ্রহণ করেছেন সাকিব। পেশোয়ার জালেমি ও লাহোর কালান্দার্সের জার্সিতে মাঠ মাতাতে দেখা গেছে সাকিবকে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত পিএসএলে সাকিব খেলেছেন ১৩ ম্যাচ। ১৬ গড়ে করেছেন ১৮০ রান। বল হাতে ৭.৩৯ উইকেটে নিয়েছেন ৮ উইকেট।
আগামী ৮ এপ্রিল পাকিস্তানে শুরু হবে এবারের পিএসএল। লাহোর কালান্দার্স বনাম ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে পিএসএলের ১০ম আসর। ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ১৯ মে, করাচির ন্যাশনাল ব্যাংক স্টেডিয়ামে।
ফাইনালে লক্ষ্যটা বেশ বড়ই দিয়েছিল করাচি ল’ইয়ার্স। তারপরও অবশ্য হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের। মুহাম্মেদ আবদুল্লাহর কল্যাণে করাচির দেওয়া ১৫৮ রানের লক্ষ্য এক বল আর পাঁচ উইকেট হাতে রেখে জিতে নিয়েছে লাহোর।
পঞ্চম উইকেটে মুজাফ্ফর হুসাইনের সঙ্গে ১০৫ রানের দুর্দান্ত এক জুটি গড়ে ম্যাচ জেতান তিনি। প্রায় ২০০ স্ট্রাইকরেটে সমান ৫ চার ও ছয়ে খেলেন ৭৮ রানের ঝোড়ো ইনিংস। তার এই বিধ্বংসি ইনিংসই মূলত জয়ের ভীত গড়ে দিয়েছে লাহোরের। আবদুল্লাহকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছিলেন মুজাফ্ফর। জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে না পারলেও ঠিকই তুলে নেন অর্ধশতক।
এর আগে বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটি ক্রিকেট গ্রাউন্ডের ফাইনালে টস জিতে ব্যাটিং করে ১৫৭ রান সংগ্রহ করে করাচি।দলের হয়ে দুটি ত্রিশোর্ধ্ব ইনিংস খেলেছেন আসাদ আব্বাসি (৩৩*) ও মুহাম্মেদ উমের (৩৪)।
গত ২০ ডিসেম্বর ছয় দল নিয়ে পর্দা উঠে ল’ইয়ার্স কাপের। যেখানে পাকিস্তানের দল দুটির বাইরে বাংলাদেশ থেকে খেলেছে ৪ দল। তারা হচ্ছে- ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেট।তবে বাংলাদেশের কোনো দলই পাকিস্তানের দল দুটিকে টপকিয়ে ফাইনালের টিকেট কাটতে পারেনি। তাই বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে দর্শক হয়েই ফাইনাল খেলা দেখতে হয়েছে বাংলাদেশের চার দলকে।
টুর্নামেন্টটি আয়োজন করেছে বাংলাদেশ আইনজীবী ক্রিকেট, টি স্পোর্টস এবং এইস যৌথভাবে।
বক্সিং ডে’ টেস্টের আলোয় ঝলমল করছেন ১৯ বছরের তরুণ স্যাম কনস্টাস। তারচেয়ে ১৭ বছরের বড় ভিরাট কোহলি’র ধাক্কা সামলে উজ্জ্বল তিনি এখন। কোহলি সমালোচিত হচ্ছেন, আর কনস্টাস প্রশংসায় ভাসছেন তাঁর অনবদ্য ৬০ রানের ইনিংসের জন্য। এই তরুণ যে আনপ্লেয়বল জাসপ্রীত বুমরাহ’র এক ওভারে নিয়েছেন ১৮ রান। বুমরাহকে টেস্ট ক্রিকেটে প্রায় তিন বছর এবং ৪ হাজার ৪৮৩ বল পর ছয় হজমের তিক্ততা উপহার দিয়েছেন সিডনি থেকে উঠে আসা এই ক্রিকেটার।
ডেভিড ওয়ার্নারের বিদায়ের পর থেকেই অস্ট্রেলিয়া ওপেনিংয়ে ভাল করতে পারছিল না! এমনকি মিডল-অর্ডার স্টিভেন স্মিথকে পর্যন্ত ঐখানে চেষ্টা করা হয়েছিল। ন্যাথান ম্যাকসুয়েইনি যখন ব্যর্থ হয়েছেন তখন স্যাম কনস্টাসের ওপর ভরসা করেছেন নির্বাচকরা, তার প্রতিদান তিনি দারুণ দিয়েছেন। মেলবোর্নে খেলেছেন ৬৫ বলে ৬০ রানের ইনিংস।
আরও পড়ুন
১৬ মাস পর ভিরাট কোহলির টেস্ট সেঞ্চুরি |
মাঠে নেমেই অস্ট্রেলিয়ার হয়ে একটা রেকর্ড গড়েছেন কনস্টাস। মাত্র ১৯ বছর ৮৫ দিন বয়সে টেস্ট খেলতে নেমে হয়ে গিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ ওপেনিং ব্যাটার। এরপর তো রীতিমত এক স্বপ্নের ইনিংস খেলেছেন তিনি। টেস্টে জাসপ্রীত বুমরাহকে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ওভার উপহার দিয়েছেন। ১ ছক্কা ও ২ চারে নিয়েছেন ১৮ রান। টেস্ট অভিষেকে কোনো অস্ট্রেলিয়ানের তৃতীয় দ্রুততম অর্ধশতক হাঁকিয়েছেন মাত্র ৫২ বলে।
তবে সাফল্যের কারণেই হোক, আর তাঁর তারুণ্যের কারণে হোক প্রথম সেশনের খেলা শেষে টিভিতে সাক্ষাৎকার দেন কনস্টাস। কোহলি তাঁর প্রিয় ক্রিকেটার, কেন হঠাৎই মাঠের মাঝে তাঁর সাথে ঝগড়া লাগলো? কেন সে তাকে ধাক্কা দিল? উত্তরে কনস্টাসকে দারুণ হিসেবি মনে হয়েছে,
‘আসলে আমরা দু’জনেই তখন আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম। আমি ঠিক জানি না কি হয়েছিল! তখন নিজের গ্লাভস ঠিক করছিলাম। তার পরেই কাঁধে ধাক্কা খেলাম। তবে এ রকম হতেই পারে। এটাই ক্রিকেট।’
আরও পড়ুন
কোহলির সাথে পাল্লা দেয়া ঠিক হবে না, অস্ট্রেলিয়ানদের সতর্ক করলেন ক্লার্ক! |
এই ঘটনায় সুনীল গাভাস্কার দু’জনের দায় দেখলেও, রিকি পন্টিং মনে করছেন ভিরাট কোহলি ইচ্ছা করেই ধাক্কাটা দিয়েছেন কনস্টাসকে। বিশেষ করে যেভাবে কোহলি পিচের দিকে হেঁটে আসছিলেন তাতে দায়টা তাকেই নিতে হবে বলে মনে করেন সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক।